পীরগঞ্জে বাড়ছে কনক্রিট ইটের ব্যবহার

73

আবু তারেক বাঁধন, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: সরকারী কাজে এখনো তালিকা ভুক্ত না হলেও ঠাকুরগাওয়ের পীরগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে কনক্রিট ইটের ব্যবহার। এরই মধ্যে বিভিন্ন বাসা বাড়ির প্রাচীর এবং ঘড়ের দেওয়াল গাথুনির কাজে এ ইট ব্যবহার করেছেন অনেকে। অটো হাইড্রোলিক মেশিনে তৈরী অত্যন্ত মজবুত ও পরিবেশ বান্ধব এ ইটের ব্যবহার আগামীতে আরো বাড়বে বলে আশা স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগের।

পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন জানান, মাটি পোড়ানো ইটের চেয়ে পাথরের গুড়া আর সিমেন্ট দিয়ে তৈরী কনক্রিটের ইট অনেক শক্ত এবং মজবুত। এটি গাথুনির জন্য অনেক ভাল। এরই মধ্যে বে সরবারি ভাবে বিভিন্ন জায়গায় এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। পীরগঞ্জ পৌর শহরের জগথা মহল্লায় কয়েক মাস আগে আনোয়ার ইকো ব্রিকস্ নামে একটি কারখানায় বানিজ্যিক ভাবে এ ইটের উৎপাদন শুরু হয়েছে। সেখানকার উৎপাদিত ইট মানসম্মত। সরকারী ভাবে এ ইট ব্যবহারের এখনো অনুমোদন পাওয়া না গেলেও পরিবেশ ও গুনগত মানের কথা বিবেচনা করে আগামীতে সরকারী কাজে এ ইটের ব্যবহার শুরু হবে বলে মনে করেন তিনি।

আনোয়ার ইকো ব্রিকস্রে মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, কয়েক মাস আগে চালু করা তার কনক্রিট ইট কারখানার উদপাদিত ৮০ হাজার ইট এরই মধ্যে তিনি বিক্রি করেছেন। আরো প্রায় ২০ হাজারের অর্ডার আছে। হাজার দশেকের মত ইট তৈরী করা আছে। তিনি আরো জানান, তার কারখানায় প্রতিদিন ৪ হাজার ইট উৎপাদন করা সম্ভব। এ ইট উৎপাদনে পরিবেশের কোন ক্ষতি হয়না। গাথুনিতে সিমেন্ট কম লাগে। প্রতিটি ইট সমান ও মসৃন। প্লাষ্টার করা লাগে না। সাধারন ইট ছাড়াও তার কারখানায় রঙিন ইট তৈরী করা যায়। এতে সাধারণ ইটের তুলনায় খরচ একটু বেশি পড়ে।

সেক্ষেত্রে আর রং করার দরকার হয়না। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ মানুষের মাঝে এ ইটের চাহিদা থাকলেও কিছু নির্মান শ্রমিক মাটি পোড়া ইট ভাটার মালিকদের হয়ে দালালি করছেন। তারা মানুষকে ভুল বুঝাচ্ছেন। তাদের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। সরকারী কাজে এ ইটের ব্যবহার শুরু হয়ে গেলে বানিজ্যিক ভাবে সফলতা পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন।

রঘুনাথপুরের সেলিম, জগথার দেবারু সহ কয়েকজন জানান, তারা এ ইট দিয়ে প্রাচীর করেছেন। নির্মাণ খরচ কম লেগেছে। দেখতেও সুন্দর লাগছে। তাদের দেখে আশ পাশের লোকজনও এ ইট কিনবেন বলে তাদের জানিয়েছেন।
কনক্রিটের ইট প্রসঙ্গে পৌরসভার প্রকৌশলী শাহজাহান বলেন, এ ইট তৈরীর ক্ষেত্রে পরিবেশের উপর কোন প্রভাব পড়ে না। গাধুনির জন্য এটা অত্যন্ত চমৎকার।

পরিবেশ নিয়ে কাজ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন পীরগঞ্জ আদর্শ কলেজের প্রভাষক তারেক হোসেন। তিনি বলেন, মাটি পুড়ে ইট তৈরী করতে বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কালো ধোয়ায় দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। এর বিকল্প হিসেবে কনক্রিটের ইট তৈরীতে পরিবেশের কোন ক্ষতি হচ্ছে না এমনটাই শুনেছি। এমনটা হলে সেটিকেই প্রতিষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা দরকার।