রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে চীন মধ্যস্থতা করতে চায় চীন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

139

নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে চীন মধ্যস্থতা করতে চায়। ইতিমধ্যে দেশটি এ বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে। চীন বলছে, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ উভয় দেশই আমাদের বন্ধু। এই সমস্যা দূর করতে একযোগে কাজ করব। চীনের নতুন রাষ্ট্রদূত ইতিমধে আমার সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় প্রয়োজন হলে চীনকে সঙ্গে রাখেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় রোহিঙ্গা ইস্যুর সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের ব্রিফ করার পরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। উল্টো গত ২২ আগস্ট একটি প্রেস রিলিজ দেয়। সেখানে আমাদের ওপর দায় চাপিয়ে বলেছে, বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আয়োজন সম্পূর্ণ করতে পারেনি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বললাম, বাংলাদেশের যা যা করার সবই করেছে। এটা মিয়ানমারের দায়িত্ব তাদের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরতে রাজি করানো। এটা বাংলাদেশের দায়িত্ব না। মিয়ানমার তাদের দায়িত্ব পালন করেনি বলে রোহিঙ্গারা যায়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব লজিস্টিক জোগাড় করা। তার সবই আমরা করেছি।

 

তারা আমাদের ৩,৪৫০ জনের একটা লিস্ট দিয়েছিল। আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেটা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে দিয়েছি তাদের মতামত জানার জন্য। সেখানে মিয়ানমার ও চীনের প্রতিনিধিরা পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। তারাও দেখেছিল। আমাদের যত ব্যবস্থ খুবই স্বচ্ছ। আমরা বলেছি, আপানারা সবকিছু দেখতে পারেন। যেকোনো বিদেশি-স্বদেশি এটা দেখতে পারেন। আমাদের কোনো কিছু লুকানোর নেই। তবে চীন বলছে, রোিিহঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ-মিয়ানমারকে একযোগে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনও সহায়তার প্রয়োজন হলে চীন সেটি করবে। এ ব্যাপারে চীনের রাষ্ট্রদূত আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। এখন তারা মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ করে আমাদের জানাবেন। পরবর্তীতে কিভাবে কাজ করা যায়। আরেক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নিরাপত্তা ও আস্থা ফেরাতে মিয়ানমারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

এক্ষেত্রে তাদের স্বচ্ছভাবে কাজ করতে হবে। আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছি। এ ব্যাপারে রোহিঙ্গা নেতাদের নিজভূমি দেখানোর পরামর্শও দেন তিনি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে মিয়ানমারকে। আরেক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব এনজিও রোহিঙ্গাদের নানাভাবে বিভ্রান্ত করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব এনজিও তাদের শর্তের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের বের করে দেওয়া হবে। মিয়ানমার গণহত্যা চালালেও তাদের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক মহড়া চালাচ্ছে এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটা আপনারাই যুক্তরাষ্ট্রকে জিজ্ঞাসা করুন, কেন তারা মহড়া চালাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার অভিযোগে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু হয়। ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া, ধর্ষণ, হত্যাসহ নানা সহিংসতায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। এ সময় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা আসে বাংলাদেশে। তারাসহ আগে আসা রোহিঙ্গা মিলিয়ে নিবন্ধনের আওতায় এসেছে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৪১৭। তারা উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার নানা উদ্যোগের পর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। এছাড়া গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গারা রাজি না হওয়ায় একজনকেও ফেরত পাঠানো যায়নি। সে সময় তারা অভিযোগ করেন, মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। এরপর সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট ব্যাপক প্রস্তুতির পরও রোহিঙ্গাদের অনিচ্ছার কারণে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন শুরুর কার্যক্রম আটকে যায়।