অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি ও কিভাবে শুরু করবো

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি ও কিভাবে শুরু করবো

2

অনলাইনে ইনকাম করার সবচেয়ে লাভজনক পদ্ধতি হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনেকে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি ও কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে হয় এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় অনেক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারছেন না। আবার অনেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে তা জানেন না। আজকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি ? অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো ? অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং পণ্য কি কি বা কত প্রকার? সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। চলুন শুরু করা যাক-

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি – অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে অনলাইনের কোন কোম্পানির অনলাইনে কিনতে পাওয়া যায় এমন প্রোডাক্ট বা পণ্য নিজের ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া পেজ বা ইউটিউবের মাধ্যমে প্রমোট করে ইনকাম করা যায়।

যখন আপনার প্রমোট করা প্রোডাক্ট বা পণ্য আপনার ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া পেজ বা ইউটিউবের ভিজিটর আপনার দেওয়া অ্যাফিলিয়েট লিংক এর মাধ্যমে কিনবে, তখন সেই প্রোডাক্ট বা পণ্য বিক্রি করার জন্য কোম্পানি আপনাকে কিছু কমিশন দিবে।

আর এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কমিশনের পরিমাণ পণ্য বা কোম্পানির উপর নির্ভর করে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে আপনাকে কত % কমিশন দেওয়া হবে তা অনলাইন ওয়েবসাইট কোম্পানি নির্ধারণ করবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এমন একটি মার্কেটিং যেখানে কি না আপনার প্রমোট করা পণ্য বিক্রয় হলে আপনাকে কমিশন দেওয়া হবে। সোজা কথায় আপনার মার্কেটিং করা প্রোডাক্ট বা পণ্য কেউ কিনলে আপনি কমিশন পাবেন। সেই কমিশন কোম্পানি ঠিক করে দিবে আপনাকে আগে থেকেই। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি তা জানলেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং পণ্য কয়টি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং পণ্য

মূলত দুই ধরণের পণ্য বা প্রোডাক্ট নিয়ে করা হয়ে থাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ।

  1. ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট বা পণ্য।
  2. ডিজিটাল প্রোডাক্ট বা পণ্য।
  • ফিজিক্যাল পণ্য বা প্রোডাক্টঃ ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট হল যেসব পণ্য ধরা ছোঁয়া যায়। যেমন, ইলেকট্রিক্যাল প্রোডাক্ট, বিউটি প্রোডাক্ট, ফ্যাশন প্রোডাক্ট ইত্যাদি।
  • ডিজিটাল পণ্য বা প্রোডাক্টঃ ডিজিটাল প্রোডাক্ট যেগুলো ছোয়া যায় না। যেমন, ডোমেইন, হোস্টিং ওয়েবসাইট থিম ইত্যাদি।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর উদাহরণ

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি তার উদাহরণ হল – যেমন ধরেন একটি মোবাইল সম্পর্কে একটি আর্টিকেল লিখেছি। আর্টিকেলে মোবাইলের সুবিধা থেকে শুরু করে দাম পর্যন্ত লিখেছি। এবং শেষে অ্যাফিলিয়েট লিংক করে দিয়েছি। যাতে করে কারো এই মোবাইল কিনতে মন চাইলে আমার দেওয়া সেই অ্যাফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে মোবাইল কিনতে পারে।

এতে করে যারা এই মোবাইলটা কিনতে চেয়েছে বা আর্টিকেল দেখে কিনতে অ্যাফিলিয়েট লিংক এ গিয়ে কিনেছে, কোম্পানির পণ্য বিক্রি করায় সাহায্য করার জন্য আমাকে তারা একটা কমিশন দিবে। এতে করে তিন পক্ষেরই লাভ হল। যারা মোবাইল কিনতে চেয়েছিল তারা অ্যাফিলিয়েট লিংকে গিয়ে সহজেই কিনতে পারলো। কোম্পানির পণ্য বিক্রি হল এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে নিজের ও কিছু লাভ হল।

এই ভাবে আপনি যে কোন পণ্য বা জিনিসের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে পারবেন। যদি আপনার ব্লগে অনেক ট্রাফিক আসে বা আপনার ইউটিউব চ্যানেলে অনেক ভিউ আসে তাহলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনেক টাকা কামিয়ে নিতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি এখন হয়তো আর বুঝতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো ? কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন তা নিচে দেওয়া হল-

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি সেই সম্পর্কে অনেকটা পরিষ্কার ধারণা হয়েছে। কিন্তু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবেন এ সম্পর্কে এখন আলোচনা করবো। এখন চলুন দেখি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো। যে কোন ইকমার্স ওয়েবসাইটে পণ্য বা প্রোডাক্টের লিঙ্ক জেনারেট করে আপনাকে প্রমোশন দিতে হবে অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটে সেই পণ্য বা প্রোডাক্টের রিভিউ দিতে হবে। এবং আরও বেশি করে তথ্য যেমন সুবিধা , অসুবিধা, উপকারীতা ইত্যাদি যেন সবাই এই পণ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারে। তবেই আপনি এই পণ্যটি বিক্রি করতে পারবেন। বন্ধুরা, আপনি আপনার নিজের ইচ্ছা অনুসারে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন, কিন্তু তাদের নীতির বিরুদ্ধে যাবেন না। আপনাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার কিছু উপায় সম্পর্কে জানিয়ে দেই।

ইউটিউবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করবো

ইউটিউবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কেননা ইউটিউব ভিডিও শেয়ারিং এর সব চেয়ে বড় মাধ্যম। তাই ইউটিউব আপনার পণ্য প্রচার ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য হতে পারে সর্বোত্তম উপায়।

আপনি আপনার পণ্য কিভাবে কিনবেন, কিভাবে ব্যবহার করবেন, পণ্য বা প্রোডাক্টের সুবিধা, অসুবিধা সব মিলিয়ে সুন্দর করে একটি ভিডিও ইউটিউবে আপলোড দিবেন। এবং ভিডিওতে পণ্যটি কেনার জন্য ভিউয়ার্সদের বলতে পারেন। এবং ইউটিউব ভিডিওর ডেসক্রিপশন বক্সে আপনার প্রোডাক্ট বা পণ্যের অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্ত করে দিবেন। যাতে করে কেউ পণ্যটি কিনতে চাইলে সেখানে গিয়ে কিনতে পারে।

ব্লগিং করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করবো

একজন ব্লগার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারে। ব্লগিং থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে, আপনাকে নিজস্ব একটি ই কমার্স ওয়েব সাইট তৈরী করতে হবে। এবং পণ্যের গুণগত মান তুলে অর্থাৎ রিভিউ দিতে হবে। যেন পণ্যের সব বিস্তারিত পড়ে একজন পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়।

এর পর রিভিউ শেষে আপনার পন্যের অ্যাফিলিয়েট লিংক যোগ করে দিতে হবে। আপনি আপনার ব্লগে পণ্যের রিভিউ লেখার পর অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্ত করে পণ্যটির প্রচার করতে পারেন। এতে করে আপনার পণ্য বেশি বিক্রি হবে ও আপনিও বেশি লাভবান হবেন।

ফেসবুক, টুইটারে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো

বর্তমানে প্রায় সকল মানুষ ফেসবুক, টুইটার অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে যুক্ত। আপনি চাইলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন।

আপনি যদি ফেসবুকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চান তাহলে আপনাকে একটি ফেসবুক পেজ তৈরী করতে হবে। আপনি ফেসবুক পেজ তৈরী করে পোস্টে অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্ত করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন।

আপনার টুইটার একাউন্টে যদি কম বেশি ফলোয়ার্স থাকে তাহলে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন। আপনি টুইটারে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং লিংক যুক্ত করে দিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে শেষ কথা

তো বন্ধুরা আজকে আপনারা জানলেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো এই সম্পর্কে। আপনারা যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চান তাহলে আলোচিত যেকোন একটি উপায়ের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি তা নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.